বিশেষ প্রতিনিধি::
খালের ওপারে জীবন, এপারে প্রয়োজন। দুয়ের মাঝে বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ এক সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে খালটি যেন উত্তাল হয়ে ওঠে, আর তখনই গ্রামের মানুষের জীবনে নামে চরম দুর্ভোগ। সেতু না থাকায় বাঁশের তৈরি একটি অস্থায়ী সাঁকোই তাঁদের একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে তাঁদের পারাপার। সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিলেছে বারবার, কিন্তু ২০ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই প্রতিশ্রুতি। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা গ্রামের চিত্র এটি। গ্রামটিতে বসবাস প্রায় তিন হাজার মানুষের। রয়েছে দুটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ শুধু বড়কাটা গ্রামের মানুষের নয়। পার্শ্ববর্তী বৈঠাখাই, এরুয়াখাই, তিলুরাকান্দি ও চকবাজার গ্রামের বাসিন্দারাও প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। সব মিলিয়ে পাঁচ গ্রামের অন্তত ১৩ হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। সাঁকোটি পার হয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয় অনেক শিক্ষার্থীকে। সরু ও নড়বড়ে বাঁশের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় একটু অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকেরা। বর্ষায় খালের পানি বেড়ে গেলে সেই উদ্বেগ আরও বাড়ে। সাধারণ সময়েই সাঁকোটি পার হওয়া কষ্টসাধ্য। বর্ষায় খালের পানি ও ¯্রােত বেড়ে গেলে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। পানির চাপে সাঁকো হেলে পড়ে, কখনো ভেঙেও যায়। এতে বিপাকে পড়েন বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের। কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় সাঁকোটি। স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন আমাদের চলাচল করতে হয়। বর্ষায় পানি বাড়লে সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। অনেক সময় সাঁকো ভেঙে গেলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। এখানে একটি সেতুর জোর দাবি জানাই। আব্দুল লতিফ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, এখানে একটি সেতু না থাকায় আমাদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে, অসুস্থ কাউকে নিয়ে যেতেও সমস্যা হয়। আমরা আর আশ্বাস চাই না, স্থায়ী সেতু নির্মাণের বাস্তব উদ্যোগ দেখতে চাই। বড়কাটা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সাধারণ স¤পাদক লিয়াকত জামিল বলেন, সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয়। সাঁকোটি নড়বড়ে হওয়ায় ভয় লাগে। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি সেতুর জন্য দীর্ঘ বছর ধরে কি যে দুর্ভোগে আছি বলে বুঝাতে পারব না। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের মানুষেরও অনেক উপকার হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। মিলেছে আশ্বাসও। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতু নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। তাঁদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজসহ দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
একটি সেতুর অভাবে পাঁচ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে
- আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ১১:৫৬:২০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ১১:৫৯:৪০ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি